গুগল ড্রাইভ কিভাবে ব্যবহার করতে হয়? গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার নিয়ম

গুগল ড্রাইভ এর ব্যবহার এবং গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার নিয়ম: অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোতে এখন ফোন মেমোরি অনেকটাই বেশি থাকে যার কারণে আলাদা করে মেমোরি কার্ড ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু অনেক সময় ফোন মেমোরি বেশি থাকা সত্বেও অনেক বেশি বেশি সাইজের ডাটা রাখার জন্য তাড়াতাড়ি ভর্তি হয়ে যায়।

এমনিতেই অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফটো তুললে তার সাইজ 1MB এর নিচে তো হয়ইনা। আর যদি ভিডিও রেকর্ডিং করা যায় তাহলে তো আর দেখতে হবে না। যদি আপনার ফোন মেমোরি ফটোর কারণে ভরে যায় তাহলে আপনি সেগুলিকে ডিলিট না করে ফোন মেমোরি ফাঁকা করতে পারেন।

এর জন্য সবথেকে ভালো একটি সমাধান হলো  গুগল ড্রাইভ (Google Drive)। এখানে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণে ডাটা রাখার জন্য জায়গা পাবেন। এখানে শুধু ফটো না আপনি অন্যান্য যেকোন ফাইল ও রাখতে পারেন তা সে কোন গান হোক বা অন্যান্য ফাইল।

আপনি চাইলে গুগল ড্রাইভে আপনার ফোনের কন্টাক্ট গুলো কেও সেভ করে রাখতে পারেন। গুগল ড্রাইভের জন্য আপনার অনেক সাহায্য হতে পারে। আর্টিকেলটা অবশ্যই পুরোটা পড়ুন তাহলে আপনি সমস্ত কিছু জানতে পারবেন।

আর গুগল ড্রাইভ এর সব কাজ করার জন্য দরকার হবে শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড ফোন অথবা ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট কানেকশন।

তাহলে চলুন প্রথমে জেনে নেওয়া যাক গুগল ড্রাইভ কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। এরপর বলবো গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার নিয়ম। আর এই গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার উপায় জানলে আপনি অন্যান্য সব ফাইল ও আপনি একই পদ্ধতিতে রাখতে পারবেন।

গুগল ড্রাইভ কিভাবে ব্যবহার করতে হয়

আপনি যদি গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করেন তাহলে আপনি এর থেকে অনেক সুবিধা পাবেন। এখানে আপনি 15GB এর একটি স্টোরেজ পাবেন। যেখানে আপনি ছবি থেকে শুরু করে এ সমস্ত ফাইল রাখতে পারবেন।

আরও পড়ুন:  How to Unpublish a WordPress Page

ছবি বা অন্য কোন ফাইলে যদি আপনি রাখেন সেটার জন্য আপনি যেখানেই আপনার মেইল আইডি দিয়ে লগইন করবেন সেখানে আপনি সমস্ত কিছু পেয়ে যাবেন।

ধরুন আপনি যদি আপনার ফোনের কন্টাক্ট নম্বর গুলোকে গুগলে সেভ করে রাখেন তাহলে আপনি যদি ফোন চেঞ্জ করেন তো সেই নতুন ফোনে আপনি আপনার মেইল আইডি দিয়ে লগইন করলেই সমস্ত কন্টাক্ট নম্বর সেখানে পেয়ে যাবেন।

গুগল ড্রাইভের কোন ফাইল যদি আপনি কারো সাথে শেয়ার করতে চান তা আপনি অনলাইনে লিংক এর মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন। যাকে আপনি শেয়ার করবেন তাকে শুধুমাত্র লিংকে গিয়ে ফাইলটিকে ডাউনলোড করে নিতে হবে।

আর গুগল ড্রাইভে আপনি প্রতিটি মেইল আইডির জন্য 15GB করে ফ্রী স্টোরেজ পাবেন। আপনার যদি 15GB এর বেশি স্টোরেজ দরকার হয় তখন আপনাকে স্টোরেজ কিনতে হবে। সেখানে গুগল ড্রাইভ এর মান্থলি প্যাকেজ রয়েছে আপনি সেখান থেকে কিনতে পারেন।

এবং গুগল ড্রাইভের একটি সবথেকে ভালো সুবিধা হল এটি সম্পুর্ন ফ্রী। ফ্রীতেই আপনি গুগল ড্রাইভের সমস্ত সুবিধা নিতে পারবেন।

আশা করছি এবারে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন গুগল ড্রাইভ কিভাবে ব্যবহার করতে হয়

গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার নিয়ম

এতক্ষণ আমি গুগল ড্রাইভ সম্পর্কে বললাম এবং বললাম গুগল ড্রাইভ কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। এবার আমি বলব গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার নিয়ম। আপনি যদি এই পদ্ধতিটি ফলো করেন তাহলে আপনি গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার নিয়ম তো জানবেনই এবং একই পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি অন্যান্য ফাইল গুলিও গুগল ড্রাইভে রাখতে পারেন।

যেমনটা আমি একটু আগে এখানে বললাম আপনি এখানে ছবি, গান, ভিডিও এবং আরো অন্যান্য ফাইল সাথে কন্টাক্ট নাম্বার এবং মেইল ও রাখতে পারেন।

গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার জন্য প্রথমে আপনাকে গুগল ড্রাইভ এর ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে অথবা প্লে স্টোর থেকে গুগল ড্রাইভ অ্যাপটি ইনস্টল করতে হবে আপনার ফোনে।

আরও পড়ুন:  MonsterInsights Review

ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ দুই জায়গাতেই আপনি গুগল ড্রাইভ এর অপশন সম্পূর্ণ এক দেখতে পাবেন। তাই আমি এখানে অ্যাপ এর উদাহরণ দিয়ে বোঝাবো।

এখন প্রায় সমস্ত ফোনেই গুগল ড্রাইভ অ্যাপটি দেওয়া থাকে। তবু একবার প্লে স্টোরে কোন আপডেট আছে কিনা দেখে নেবেন।

  • প্লে স্টোর থেকে গুগল ড্রাইভ অ্যাপ ইন্সটল করার পর অ্যাপটিকে ওপেন করুন।
  • আপনি যদি প্রথম বার গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করছেন তাহলে আপনাকে আপনার মেইল আইডি দিয়ে লগইন করতে হবে।
  • লগইন করার পর যখন আপনি অ্যাপটির হোমপেজে যাবেন সেখানে আপনি একদম নিচের ডান দিকে একটি প্লাস (+) চিহ্ন দেখতে পাবেন। ওটিতে ক্লিক করুন।
গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার নিয়ম
  • ক্লিক করার পর আপনি কিছু অপশন দেখতে পাবেন, সেখান থেকে Upload অপশনটি ক্লিক করুন। আপনি যদি কোন পার্টিকুলার ফোল্ডারে রাখতে চান তাহলে প্রথমে আপলোডের পাশে থাকা Folder অপশনে ক্লিক করে একটি নতুন ফোল্ডার বানিয়ে নিতে পারেন।
গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার নিয়ম
  • আপলোড অপশনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে ফাইল সিলেক্ট করার অপশন চলে আসবে। এখান থেকে যদি আপনি কোন ছবি রাখতে চান তো ছবি সিলেক্ট করবেন অথবা অন্য কোনো ফাইল রাখতে চাইলে সেই ফাইলটি সিলেক্ট করবেন।
  • এরপর অটোমেটিক আপনার ফাইলটি গুগল ড্রাইভে আপলোড হওয়া শুরু হয়ে যাবে।

অনেক সময় এমন হয় যে শুধুমাত্র ওয়াইফাই এ তেই কোনো ফাইল আপলোড নেবে। সেক্ষেত্রে আপনাকে দেখিয়েও দেবে যে ওয়াইফাই কানেক্ট করলে তারপরে ফাইল আপলোড হবে।

আপনি যদি আপনার ফোনের ডাটা থেকে আপলোড করতে চান তাহলে ফাইলটি যেখানে লোডিং হচ্ছে তার পাশে আপনি একটি উপরের দিকে মুখ করা তীর চিহ্ন দেখতে পাবেন। ওই অপশনটিতে ক্লিক করবেন।

গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার নিয়ম

ক্লিক করলেই অটোমেটিক আপনার ফোনের ডাটা থেকেই ফাইলটি গুগল ড্রাইভে আপলোড হয়ে যাবে। এভাবেই আপনি গুগল ড্রাইভে ছবি রাখতে পারেন। 

আরও পড়ুন:  What's the Difference Between Landing Page and Website?

জরুরি তথ্য

আর্টিকেলটি যদি আপনি পুরোটা পড়েন তাহলে আপনি গুগল ড্রাইভ কিভাবে ব্যবহার করতে হয় এবং গুগল ড্রাইভে ছবি রাখার নিয়ম সম্পূর্ণ হবে জানতে পেরে যাবেন।

আর শুধুমাত্র ছবি না অন্যান্য সমস্ত ফাইল ও আপনি আপলোড করতে পারবেন একই পদ্ধতি অনুসরণ করে। যদি আপনার ফোন মেমোরি ভর্তি হয়ে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি, তাহলে অবশ্যই গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করুন।

ফোনের ফটো গুলোকে গুগল ড্রাইভে রেখে ফোন মেমোরি ফাঁকা করে রাখুন অন্য তথ্য রাখার জন্য। এছাড়াও আপনি আপনার ফোনে যে সমস্ত কন্টাক্ট নাম্বার রেখেছেন সেগুলো কেউ আপনি এখানে রাখতে পারেনা। এছাড়াও ইমেইল ও আপনি গুগল ড্রাইভে রাখতে পারেন।

এতে আপনি যখন নতুন কোন ফোনে বা কম্পিউটারে মেইল আইডি দিয়ে লগইন করবেন সেখানেই আপনি এই তথ্যগুলি অটোমেটিক পেয়ে যাবেন।

গুগল ড্রাইভ ছাড়া আরো কিছু অ্যাপ রয়েছে যারা এই ধরনের ফ্রী স্টোরেজ দিয়ে থাকে। নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন গুগল ড্রাইভ ছাড়া অন্যান্য ফ্রী স্টোরেজ অ্যাপ এর ব্যাপারে জানতে চান কিনা।

আর আর্টিকেলটি অবশ্যই শেয়ার করবেন যারা খুব তাড়াতাড়ি ফোন মেমোরি ফুল হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের সাথে। এবং AnswerChamp সাইটটি প্রতিদিন ফলো করবেন এই ধরনের সুন্দর সুন্দর তথ্য জানার জন্য। ধন্যবাদ।।

Leave a Comment