জিও ফোন থেকে অনলাইন টাকা আয় কিভাবে করা যায়?

জিও ফোন থেকে অনলাইন টাকা আয়: জিও ফোন এর ব্যবহার এখন অনেকটাই বেড়ে গেছে। আর বাড়বে নাইবা কেন এত কম টাকায় এতকিছু ফিচারস পাওয়া খুবই মুশকিল। তাই এই জিও ফোনের ব্যবহার এতটা বেড়ে গেছে। আপনি যদি এন্ড্রয়েড ফোনে জিও সিম ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই জানবেন কত বেশি টাকা দিয়ে রিচার্জ করতে হয়। অথচ জিও ফোনের জন্য রিচার্জে টাকা ও অনেক কম লাগে।

আপনি যদি একজন জিও ফোন ইউজার হয়ে থাকেন তাহলে সাধারনত আপনি আপনার ফোনে ফোন করা ছাড়াও ইউটিউব, ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। সাধারণত এইগুলোই সবাই একটু বেশি ব্যবহার করে। আপনি কি জানেন আপনি আপনার এই জিও ফোন থেকে অনলাইন টাকা আয় করতে পারেন? আর সেই টাকার পরিমাণটা কম কিছু না বেশ ভালই। অনেকে অলরেডি করছেন জিও ফোন থেকে টাকা আয়

আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি আপনাদের সাথে 2 টি পদ্ধতি শেয়ার করব। যেই পদ্ধতির দ্বারা আপনি আপনার জিও ফোনটিকে একটি ছোটখাটো ATM মেশিন বানিয়ে নিতে পারেন। খুব সহজেই আপনি বাড়িতে থাকে আপনার জিও ফোন থেকে একটা ভালো পরিমাণ টাকা অনলাইনে আয় করতে পারেন।

আপনি সাধারণত আপনার জিও ফোনে সবথেকে বেশি ব্যবহৃত ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ এর ব্যবহার করে অনলাইন টাকা আয় করতে পারবেন। এই দুটি পদ্ধতি আমি আপনাদেরকে বলবো।

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক জিও ফোন থেকে টাকা আয় করার পদ্ধতি দুটি সম্পর্কে।

জিও ফোনে ফেসবুক থেকে অনলাইন টাকা আয়

জিও ফোনে ফেসবুক থেকে অনলাইন টাকা আয়

ফেসবুক থেকে অনলাইনে টাকা আয় করার জন্য আপনি যে ফোনটি ব্যবহার করুন না কেন আয় করার জন্য আপনাকে প্রোডাক্ট বেচতে হবে। তা সে জিও ফোনই হোক বা ফোন। যদি আপনার নিজস্ব কোন ব্যবসা থাকবো তাহলে সেটি আপনি এই ফেসবুকের মাধ্যমে বাড়াতে পারেন। অথবা আপনি যদি কোন ব্যবসা না করেন তাহলে খুব সহজেই আপনি আপনার জিও ফোন থেকে অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

আরও পড়ুন:  অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখে টাকা আয় করা যায় কিভাবে?

এর জন্য দরকার হবে প্রোডাক্ট এর। এখন অনলাইন প্রোডাক্ট বেচার জন্য অনেক ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ্লিকেশন আপনি পেয়ে যাবেন। আপনি আমাজন এর প্রোডাক্ট ও অনলাইন বিক্রি করে কমিশন পেতে পারেন। এর জন্য দরকার হবে একটি আমাজন এফিলিয়েট একাউন্ট। আপনি যদি ইউটিউবে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট কিভাবে বানাতে হয় তা সার্চ করেন আপনি অনেক ভিডিও পেয়ে যাবেন।

তা দেখে আপনি নিজের জন্য একটি অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট বানিয়ে নিন। অথবা আপনারা যদি চান তাহলে আমি আলাদা করে একটি আর্টিকেল দিয়ে দেব অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট কিভাবে বানাতে হয় তার উপরে। তার জন্য অবশ্যই আপনারা কমেন্ট করে বলুন।

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট এ্যাকাউন্ট বানানোর পর আপনি আপনার ফেসবুক একাউন্টে গিয়ে সেখানে বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন হয়ে যান। এবং সেখান আমাজন থেকে যেসব প্রোডাক্ট এর কমিশন বেশি রয়েছে সেইসব এরমধ্যে থেকে কোন একটি প্রোডাক্ট বেছে নিয়ে তার বিজ্ঞাপন ফেসবুকে দিয়ে দিন। যদি কেউ কিনতে আগ্রহী হয় তাহলে আপনাকে মেসেজ করবে এবং আপনি তখন অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট এর লিংক তাকে দিয়ে দেবেন। সে যখনই আপনার লিংক থেকে প্রোডাক্ট কিনবে আপনি আপনার কমিশন পেয়ে যাবেন।

এইভাবে আপনি যত বেশি প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন তত বেশি টাকা আয় করতে পারবেন। আপনি অবশ্য ফেসবুক গ্রুপ ছাড়াও ফেইসবুক মার্কেটপ্লেস ও ব্যবহার করতে পারেন। মোটকথা আপনাকে প্রোডাক্ট বিক্রি করতে হবে আপনি যত বেশি প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন তত আপনার লাভ হবে। এবং আপনি চেষ্টা করবেন একটু আলাদা ধরনের কিছু দেখানো যেটি সচরাচর পাওয়া যায় না।

জিও ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে অনলাইন টাকা আয়

জিও ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে অনলাইন টাকা আয়

জিও ফোন ছোট হলে কি হবে এর কাজ কিন্তু দারুণ। একটি সাধারণ এন্ড্রয়েড ফোনের মত আপনি জিও ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপ চালাতে পারেন। এবং শুধু হোআটসঅ্যাপ চালানো না আপনি চাইলে সেই হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ভালো পরিমাণ অনলাইন টাকা ইনকাম করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও আপনি প্রোডাক্ট বিক্রি করে টাকা আয় করবেন।

আরও পড়ুন:  Rozbuzz WeMedia থেকে ঘরে বসে টাকা আয় করা যায় কিভাবে?

তবে ফেসবুকে আপনি যেমন কোন কিছু সার্চ করলেই গ্রুপ বলুন বা কারো নাম তা আপনি খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপে সেই সুবিধাটা নেই। এর জন্য দরকার হবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এর। যা আপনি গুগল থেকে পেয়ে যাবেন। অথবা আপনি নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে সরাসরি গুগল এ বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংক পাবেন তারমধ্যে যে কোন ওয়েব সাইটে ভিজিট করলে আপনি বিভিন্ন ধরনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ লিংক পেয়ে যাবেন।

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ লিংক

আপনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জয়েন হওয়ার পর আপনার বিজনেস এর প্রোডাক্ট বা আমাজন এফিলিয়েট এর প্রোডাক্ট এর লিংক সহ ছবি আপনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গুলিতে প্রতিদিন শেয়ার করতে পারেন। যদি কেউ কিনতে আগ্রহী হন এবং আপনার লিংক থেকে কিনলেই আপনি তার কমিশন পেয়ে যাবেন।

আমাজন অ্যাফিলিয়েট কমিশন পেজ এ ভিজিট করে আপনি দেখে নিতে পারেন কোন প্রোডাক্ট এর জন্য আপনি কত কমিশন পেতে পারেন। সেই অনুযায়ী আপনি প্রোডাক্ট বেছে নিয়ে তার বিজ্ঞাপন শুরু করে দিন। আপনার হয়তো মনে হতে পারে যে এভাবে কতইবা টাকা আয় করা যাবে। কিন্তু আপনি একবার যদি শুরু করেন কিছুদিন করার পর আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন এখান থেকে আপনি কত পরিমান টাকা আয় করতে পারবেন।

আপনি চাইলে আলাদা আলাদা বুদ্ধি খাটিয়ে বিভিন্ন রকম ভাবেই প্রোডাক্ট বিক্রি করে আরো বেশি লাভ করতে পারেন। একটু আলাদা ধরনের কিছু করতে পারলেই আপনি অনেক বেশি কিছু করতে পারবেন। এখন ফ্লিপকার্ট অ্যামাজন অনেকেই ব্যবহার করেন কিন্তু আপনি যখন আলাদা ধরনের কিছু শেয়ার করবেন তা দেখে কেনার লোভ অনেকেই সামলাতে পারবেন না।

এরপর আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে কোন সময় কোন প্রোডাক্ট ট্রেন্ডিং চলছে। যেমন ধরুন কোন পুজোর সময় জামা কাপড় এর বেচাকেনা বেশি হয় সেটা আপনি ভালো করেই জানেন। তাই ওই সময় যদি আপনি আলাদা আলাদা ধরনের নতুনত্ব কিছু জামা কাপড় শেয়ার করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি অনেক বেশি লাভবান হতে পারবেন।

আরও পড়ুন:  রেফার (Refer) করে টাকা আয় করার সবচেয়ে সেরা অ্যাপ কোনটি?

জরুরি তথ্য

জিও ফোনে ফেসবুক থেকে অনলাইন টাকা আয় করার জন্য যে পদ্ধতিটি আমি বললাম এবং তারপরে জিও ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে অনলাইন টাকা আয় করার যে পদ্ধতিটি বললাম পদ্ধতি দুটি শুনে আপনাদের হয়তো মনে হতে পারে যে দুটি সম্পূর্ণ একই। কিন্তু দুটি পদ্ধতি একই মনে হলেও অনেকটাই আলাদা। এবং সেটি আপনি নিজে যখন এপ্লাই করবেন তখনই বুঝতে পারবেন যে কেন আমি আলাদা বললাম।

আপনি অবশ্যই আপনার জিও ফোনে এই দুটি পদ্ধতি একবার হলেও অনুসরণ করে দেখুন। হয়তো প্রথম প্রথম একটু কম টাকা ইনকাম হবে। কিন্তু আপনি যখন সম্পূর্ণ ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন এবং কাজ করতে করতে পরে অটোমেটিক আপনার অনলাইন ইনকামের পরিমাণটি বেড়ে যাবে।

একটা জিনিস মাথায় রাখবেন কোন ভুলভাল প্রোডাক্ট বেচাকেনা করবেন না। এবং সবসময় চেষ্টা করবেন নিজের ওপরে দায়িত্ব না রেখে কাস্টমার কে বোঝানোর যে অবশ্যই প্রোডাক্ট রেটিং এবং রিভিউ দেখে কেনার জন্য। তাহলে একটা সুবিধা হবে যে প্রোডাক্ট কেনার পর আপনার উপর কোন দায়িত্ব থাকবে না। এমন অনেকেই থাকেন যে মনে করেন আপনার লিংক থেকে কিনছেন মানে প্রোডাক্টটি আপনার। সেই জন্যই আমি এই কথাটি বলে দিলাম।

যদি এই পদ্ধতি দুটি অনুসরণ করার সময় কোন জায়গায় অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন তাহলে অবশ্যই তা কমেন্ট করে জানাবেন। এবং আপনার পরিচিত কেউ যদি জিও ফোন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আর্টিকেলটি শেয়ার করে তাকে তার জিও ফোন থেকে অনলাইন টাকা আয় করার সুবিধা করে দিন।

AnswerChamp সাইটটি প্রতিদিন ফলো করবেন এই ধরনের সুন্দর সুন্দর তথ্য বাংলায় পাওয়ার জন্য। ধন্যবাদ।।

Leave a Comment